মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০১১

ইমাম মাহদীর হাতেই কি সমর্পিত হবে তালেবানের নেতৃত্ব?


                                                                হাফেজ মাও: আবু মাছরুর
বর্তমান ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি অঞ্চলের নাম হল খুরাসান। আর আমাদের রাসূল স এর হাদীস সমুহ থেকে পাওয়া যায় যে ইমাম মাহদী খুরাসান থেকে আত্বপ্রকাশ করবে।  



এ প্রসংগে একটি হাদীস -
ছাওবান রা থেকে বর্নিত রাসুলুল্লাহ স বলেছেন, যখন তোমরা খোরাসান থেকে আগত কালো পতাকাধারীদের দেখবে তখন তোমরা তার নিকট যাবে। কেননা তার মধ্যে আল্লাহর খলিফা মাহদী আছে। মুসানাদে আহমাদ
বর্তমান ইউরোপ শাষিত পৃথিবীতে তাদের বানানো ম্যাপে তো খোরাসান অঞ্চলে কোন কালো পতাকাধারীদের দেখা যায় না। আর সেখানে না হচ্ছে যুদ্ধ আর না চাওয়া হচ্ছে কোন দাবী দাওয়া। যেমন পরবর্তী হাদীসটি যা অনেক রাবী ও অনেক হাদীসের কিতাবে বর্নিত হয়েছে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা বলেন, আমরা রাসুল স এর নিকট বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় বনী হাশেমের কিছু যুবক এল। যখন রাসুল স তাদের কে দেখলেন তখন তাঁর চক্ষু অশ্রুসিক্ত হল।  চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। আমি বল্লাম কি ব্যপার! হে আল্লাহর রাসূল আমরা আপনার চেহারায় অপছন্দনীয় বিষয় দেখতে পাচ্ছি। তখন তিনি বল্লেন ............. অবশেষে পূর্ব থেকে একটি জাতী প্রকাশ পাবে। তাদের পতাকা হবে কালো, তারা উত্তম বিষয় দাবী করবে। কিন্তু দেয়া হবেনা। তখন তারা লড়াই করবে। এবং (আল্লাহর পক্ষ থেকে ) সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। তখন তাদের দেয়া হবে তারা যা চেয়েছিলো কিন্তু তারা তা গ্রহন করবে না। অবশেষে তা (দাবীকৃত বিষয়টি) ন্যস্ত করবে আমার বংশের এক ব্যক্তির নিকট সে ইনসাফে পরিপূর্ণ করে দিবে যেমনি ভাবে যুলুম ও যবরদস্তিতে পরিপূর্ণ ছিল। তোমাদের মধ্যে যে সে সময়টা পাও সে যেন তাদের সাথে মিলিত হয় যদিওবা বরফে হামগুড়ি দিয়ে হলেও।
সুনানে ইবনে মাজা ( বাবে খুরুযুল মাহদী) সমবিষয়ে অনেক হাদিস আছে নিচে কিতাবের উদ্দৃতি দেয়া হল।
মুসতাদরাকে হাকেম মালাহিম ও ফিতনার অধ্যায় হাদীস নং ৮৪৮০ তাদরাকে হাকেম মালাহিম ও ফিতনার অধ্যায় হাদীস নং ৮৪৮২ তাবরানী ১ম খন্ডে ৯৪ পৃষ্ঠা । নাইম ইবনে হাম্মাদ হাদীস নং ৮৮৮, ৮৮৭ । ইবনে আবি শাইবা হাদীস নং ৩০৮ এবং ৩৭০৬০। বায়হাকী , দালাইলুন্নবুউয়াহ হাদীস নং ২৮৮১। মুসনাদুুল বাযযার , হাদীস নং ৩২০০ আরো অনেক।
এ বিষয়ে অনেক হাদীস রয়েছে । ঐ সমস্ত হাদীস সমূহে পূর্বাঞ্চলে প্রকাশিত জাতীর কিছু নমুনা এ রকম পাওয়া যায়। যেমন-
১। তাদের পতাকা হবে কালো।
২।ঐ জাতীর লোকদের বংশ হবে ভিন্ন ভিন্ন গ্রাম ও শহরে।
৩। তাদের নাম হবে উপনাম। আবু মুসআব, আবু হামযা, ইবনে জানদাল ইত্যাদী (যা আসল নাম নহে)
৪। তারা হবে অনুভুতিশীল। ভিন্ন অর্থে তারা হবে পশমের কাপড় পরিধানকারী
৫। তারা দামেস্ক জয় করবে।
৬। তারা বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করবে।
এখন আমাদের ভাবতে হবে এ সমস্ত কথা কবের? রাসুল স এর সময়ের। সেই সময়ের খুরাসান বর্তমান খুরাসান এক কি না? তখনকার মানচিত্র দেখলাম আপনারাও দেখুন


বর্তমান আফগানিস্থান ও রাশিয়ার কিছু অংশ যেখানে তালেবানদের নেতৃত্বে যুদ্ধ হচ্ছে। ও ইরানের কিছু অংশ নিয়ে পূর্ববতী খুরাসান গঠিত। আর সেখানে কালো পতাকাধারীদেরতো সবাই চেনে।



আর তালেবান সেনা শুধু আফগান জনগোষ্ঠি নিয়ে গঠিত নয় বরং বিভিন্ন জাতীগোষ্ঠি দ্বারা গঠিত। আর তারা সাধারনত নামের ক্ষেত্রে পরিচিত নাম উহ্য রেখে উপনাম বেশী ব্যবহার করে নিরাপত্তার জন্য। তারা আল্লাহর হুকুম আহকামের ব্যাপারে অত্যান্ত অনুভূতিশীল। ঠান্ডার কারনে তারা পশমী কাপড়ই বেশী ব্যবহার করে। তারা যখন আল্লাহর হুকুম মত দেশ পরিচালনা করেছে। তখন তাদেরকে তাদের এই ন্যায্য অধিকার থেকে বাধা দিল কুফুর বিশ্ব। কিন্তু আল্লাহর সাহায্য ও অপার অনুগ্রহে তারা সেখানে বিজয়ী যোদ্ধা হিসাবে টিকে আছে। এখন কুফর-বিশ্ব তাদের সাথে কথা বলতে অগ্রহী কিন্তু তারা বিদেশী সৈন্যের উপস্থিতিতে কোন আলোচনা করতে Aw¯^Kvi করেছে। আর আফগান জনগন এই ইসলামী সরকারের নিকটই বিচার নিয়ে যাচ্ছে। যদিও কাফেরদের সেটা ভাল না লাগে। এখন দেখার পালা সামনে তাদের অগ্রযাত্রা কতদুর পর্যন্ত এগোয় ?

২টি মন্তব্য:

আরো দেখুন

Related Posts with Thumbnails